বিএইআরএর ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রূপপুরের প্রথম ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় রোববার (২৫ অক্টোবর) ইউনিটটির পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা (ফিজিকস টেস্ট) ও স্টেজ বি-২-এর অন্যান্য কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন গত বুধবার (২১ অক্টোবর) নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলেই ইউনিটটি স্টেজ সি-তে প্রবেশ করবে। এ পর্যায় থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফিজিকস টেস্টের প্রতিবেদন বিএইআরএর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ইউনিটটি।

জাহেদুল হাসান আরও জানান, ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়ে রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে দেরি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কার্যক্রমও পিছিয়ে যেতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদনক্ষমতা। প্রকল্প কর্মকর্তাদের আশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা নির্ভর করবে প্রতিটি ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি অর্জিত হয়। এ সময় রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় বিধিবিধান মেনে চলা, কারিগরি পরামিতি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সনদ গ্রহণের পর নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হয়েছে। রিঅ্যাক্টরে ইতোমধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং ফিশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ সময় রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও অন্যান্য কারিগরি কর্মীরা উপস্থিত থেকে প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন।

পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম পরমাণুর নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করে। আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাকি কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।