অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল সামরিক আইন জারি এবং সেনাবাহিনী দিয়ে পার্লামেন্ট ভবন অবরুদ্ধ করার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। শনিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “আমি খুবই দুঃখিত এবং সামরিক আইন জারির ঘটনায় আন্তরিকভাবে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি। এমন কিছু আর কখনো ঘটবে না।”
এছাড়া, ইউন সুক ইওল জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার তিনি আর কখনো সামরিক আইন জারি করবেন না এবং চলতি পরিস্থিতিতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়া গুজবও খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের পরিষ্কার ভাষায় বলছি, সামরিক শাসন জারির মতো আর কখনো কিছু ঘটবে না।”
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল সামরিক আইন জারি করেন, যা দেশজুড়ে তীব্র বিরোধিতা সৃষ্টি করে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই তার পদত্যাগের দাবি তোলেন এবং সাধারণ জনগণ পার্লামেন্ট ভবনের মুল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর, স্পিকারের নেতৃত্বে দ্রুত একটি ভোটাভুটির ব্যবস্থা করে সামরিক আইন বাতিল করা হয়। পার্লামেন্টের ৩শ’ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন সামরিক আইনের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
প্রেসিডেন্ট ইউন তার ভাষণে আরও বলেন, “আমি জাতিকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমার ক্ষমতাসীন দলের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করছি।”
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বলেছিলেন, সামরিক আইন জারির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শক্তি থেকে দেশকে রক্ষা এবং দেশবিরোধী উপাদান নির্মূল করতে করা হয়েছিল।
এই সামরিক আইন জারির পর, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ঘটে, যখন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।











