অনলাইন ডেস্ক:
২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর থেকে প্রায় এক দশক ধরে বিপুল পরিমাণ দূষিত মাটি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে মঙ্গলবার জাপান পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসী। এটি তাঁর পঞ্চম সফর। তিনি ফুকুশিমা দাইচি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ফুকুশিমা দাইচি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০১১ সালে সুনামির আঘাতে ভেঙে পড়েছিল এবং এটি ছিল চেরনোবিলের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়। জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরবর্তী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। এর অংশ হিসেবে, ফুকুশিমার দূষিত মাটি সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করবেন গ্রোসী।
গত সপ্তাহে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা কয়েক টন তেজস্ক্রিয় ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের জন্য বর্জ্য জলের ট্যাঙ্কগুলো ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছেন। আজ বুধবার গ্রোসী পরিদর্শনে গিয়ে এই মাটির সংরক্ষণাগার দেখবেন এবং ভবিষ্যত ব্যবস্থাপনার জন্য সিদ্ধান্ত দেবেন।
দুর্যোগের পর, বৃহত্তর ফুকুশিমা অঞ্চল থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, জৈব পদার্থ পোড়ানোর মাধ্যমে ৩ লক্ষ ঘনমিটার ছাই অপসারণ করা হয়েছে। এই মাটিগুলো ১৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তর্র্বতীকালীন সংরক্ষণাগারে রাখা হচ্ছে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, মাটির যেসব অংশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কম পাওয়া গেছে, সেগুলি পুনর্ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদি তা নিরাপদ বলে নিশ্চিত হয়, তবে এটি রাস্তা, রেলপথের জন্য বাঁধ নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে। অবশিষ্ট মাটি ২০৪৫ সালের আগে ফুকুশিমা অঞ্চলের বাইরে ফেলে দেওয়া হবে।
এছাড়া, জাপান সরকার জানিয়েছে, তারা এই বছরই বর্জ্য অপসারণের স্থান নিশ্চিত করবে এবং ফুকুশিমা আঞ্চলিক গভর্নর দ্রুত একটি পরিকল্পনা তৈরির জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।











