ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

জার্মানিতে মর্যাদাপূর্ণ ‘স্বাধীনতা পদক’ পেলেন ইরানের শাহপুত্র রেজা পাহলভি

প্রকাশিত: 8 November 2026, 2:47 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভিকে ‘ফ্রিডম প্রাইজ’ বা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত অত্যন্ত বিতর্কিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। জার্মানির উদারপন্থি ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির (এফডিপি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সংগঠন ফ্রিডরিশ নাউমান ফাউন্ডেশন তাকে এই সম্মাননা প্রদান করেছে।

ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাহলভি বলেন, ইরান এমন কোনো দেশ নয় যাকে নতুন করে গণতন্ত্র শেখাতে হবে; বরং দেশটির সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক গণতন্ত্র চর্চা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে দেশের জনগণ হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত, তারা নিজেদের ভোটাধিকার সঠিকভবে প্রয়োগ করার জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

পাহলভি নিজের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ সবচেয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারে এমন একটি জনগোষ্ঠীকেই এই বিশেষ পুরস্কারের জন্য এবার বেছে নেওয়া হয়েছে।

তবে ইরানে যতদিন পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসছে, ততদিন পর্যন্ত তিনি নিজেকে এই পুরস্কারের কেবল একজন ‘অস্থায়ী আমানতদার’ হিসেবে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করছি। একদিন এর প্রকৃত মালিকদের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেব। বিদেশের মাটিতে নয়, তেহরানের রাজধানীতে’।

উল্লেখ্য, পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ। চরম স্বৈরশাসক হিসেবে কুখ্যাত এই শাসক ১৯৭৯ সালে প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। ওই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই ইরানে দীর্ঘদিনের রাজতন্ত্রের চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে দেশটিতে ইসলামি ধর্মীয় নেতাদের কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

এদিকে রেজা পাহলভিকে পুরস্কার দেওয়ার এই আয়োজনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্টের মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ও গ্রিনস পার্টির স্থানীয় শাখা; যারা যৌথভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছে। তাদের স্পষ্ট যুক্তি হলো, ‘পাহলভিকে কোনোভাবেই ইরানি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা যায় না’। অন্যদিকে, ফ্রাঙ্কফুর্টেরই বামপন্থি দল ডি লিঙ্কের শাখা সেন্ট পলস চার্চে এ ধরনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের জোরালো দাবি ছিল, শহরের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী কোনো উপাসনালয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অনুষ্ঠান আয়োজনের বিন্দুমাত্র অনুমতি নেই।

মন্তব্য করুন