রহস্যজনক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আবারও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দেশের সামরিক তৎপরতার কোনো সংযোগ থাকতে পারে। তবে আলোচিত এসব এলাকায় আসলেই কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, কেশম দ্বীপে বিকট শব্দে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার সঙ্গে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বাস্তব কোনো সম্পর্ক নেই।
এরই মধ্যে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে গত ৯ নভেম্বরের অমাবস্যায় পুরো ইরানকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন একটি গুঞ্জন বা আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে গত রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী (আইআরজিসি) চাঞ্চল্যকর এক দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় আকস্মিক মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয় যে, তেলবাহী জাহাজ দুটি নির্ধারিত নিয়ম বা অনুমোদনহীন পথ দিয়ে চলাচলের অপচেষ্টা করছিল।
তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক শোনা ওই বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে তেলবাহী জাহাজে ঘটিত দুর্ঘটনার কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি এবং বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার ঠিক কিছুদিন আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই দ্বীপটিতে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেবারের সেই সামরিক হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ সীমিত পরিসরের।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, কেশম দ্বীপে চালানো ওই সীমিত হামলার মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা হয়নি।
