জিয়া আদর্শে নিরপেক্ষ কূটনীতির বার্তা, ভারত বা পাকিস্তান কোনো বলয়ে নয়: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর পিআইবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো আঞ্চলিক শক্তির বলয়ে না গিয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতিতে এগিয়ে যেতে চায়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নিরপেক্ষ কূটনীতির ধারাকে বর্তমান রাজনীতির পথনির্দেশক হিসেবে তুলে ধরেন।

 

শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে “বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি” শীর্ষক এই আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। সভায় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানানোর রাজনীতি করেননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা ভারত বা পাকিস্তান কোনো বলয়ে যেতে চাই না, নিজেদের একটি স্বতন্ত্র বলয়ে থাকতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে উদার ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে চায়।

 

আলোচনায় তিনি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, সে সময়ের সংকট ও যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তানি শাসনামলের নির্যাতন ও বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “সেই সময়ের বর্বরতা জাতি কখনোই ভুলতে পারবে না।”

 

ফখরুল আরও দাবি করেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, বিভাজনের বদলে সমঝোতা ও পুনর্গঠনের রাজনীতি ছিল জিয়ার মূল দর্শন, যা পরবর্তীতে বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছে।

 

সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় সরকার ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করছে। কোনো পদক্ষেপ যাতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

আলোচনায় আরও অংশ নেন বিভিন্ন গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও সাংবাদিক। বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, স্বাধীন কূটনীতি এবং রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

 

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।