অনলাইন ডেস্ক:
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানল ৯ দিন ধরে চলছে, এতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম চালিয়ে গেলেও সান্তা অ্যানা ঝড়ো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা এই অবস্থায় ‘আগুন টর্নেডো’ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়, যার মধ্যে ছোট-বড় প্রায় ১২টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের মতো অভিজাত এলাকা, যেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বিলাসবহুল বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ৪০ কিলোমিটার পূর্বে আলটাডেনা এলাকায় আরও পাঁচ হাজারের বেশি স্থাপনা পুড়ে গেছে। এই দুটি এলাকায় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, এবং বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার একর জমি জ্বলছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রিস্টিন ক্রাউলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো থেকে আগত দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরের লাখো মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত, এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
এদিকে, সান্তা অ্যানা ঝড়ো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দফতরের একটি বার্তায় জানানো হয়েছে, বাতাসের তীব্রতা বেশি এবং খুবই শুষ্ক হওয়ায় দাবানলের পরিধি বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদরা ‘আগুন টর্নেডো’ হওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি করোনার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা কয়েকশ’ ভবনে তল্লাশি চালিয়ে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দাবানল এবং ঝড়ের কারণে স্কুলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই শিশুদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।
প্যাসিফিক প্যালিসেডস এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ হাজারেরও বেশি অবকাঠামো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে, লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও এক সপ্তাহ তীব্র বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।











