নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। বছরের শুরু থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। হিসাবটি সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৪৮০ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন, ময়মনসিংহে ৯৬ জন, রংপুরে ৭৫ জন এবং সিলেটে ১৮ জন রয়েছেন।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাস ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অক্টোবরেও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে ৫ অক্টোবরের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৯০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়ে ১০ জনে এবং নতুন রোগী বেড়ে ১ হাজার ৯৯৬ জনে পৌঁছেছে। (BSS)
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অক্টোবরের শুরুতেই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বরেই দেশে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাসে পরিণত হয়। (Reuters)
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের।
২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। ওই বছর মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে দেশের হাসপাতালগুলোতেও প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ বেশি এমন এলাকায় প্রয়োজনে ফিল্ড হাসপাতাল করার বিষয়েও সরকার বিবেচনা করছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।










