তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি তিতুমীর কলেজকে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করার পর আজ, বৃহস্পতিবার তারা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন, যার ফলে মহাখালী, গুলশানসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

এ আন্দোলনটি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে চলমান, যখন থেকে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তারা নতুন করে তাদের দাবিগুলো রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশন’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সারোয়ার জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

‘তিতুমীর ঐক্য’ নামে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম সাতটি দাবি উত্থাপন করেছে: ১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ। ২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম শুরু। ৩. শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা আবাসিক খরচ বহন। ৪. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অন্তত দুটি নতুন বিষয় (আইন ও সাংবাদিকতা) সংযোজন। ৫. একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পিএইচডি ডিগ্রিধারী যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ। ৬. শিক্ষার মান উন্নয়নে আসনসংখ্যা সীমিত করা। ৭. আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার গঠনের জন্য জমি ও অর্থ বরাদ্দ।

গুলশান ট্রাফিক জোনের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার জিয়াউর রহমান জিকো জানান, আন্দোলনের ফলে যানজট সৃষ্টি হয়েছে, তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, গত ৫ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ঘোষণা করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে, যদিও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা এখনও স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ ইসলাম অনিক বলেন, “আমরা তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই, এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হবে কিনা, তা এখনো অজানা, তবে তাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।