জেলা প্রতিনিধি, সিলেট :
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় ত্রিমুখী রাস্তার দুপাশ দখল করে একাধিক অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় অটোরিকশাগুলো। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাসহ পার্কিং করে রাখা হয় যত্রতত্র, যার ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং শহরমুখী মানুষের জন্য ভোগান্তি বেড়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, চন্ডিপুল সড়কের দুপাশ দখল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, কৃষকদলের এক নেতার শেল্টারে শ্রমিকদলের কিছু প্রভাবশালী নেতা সড়কের রাস্তা দখল করে নিজেদের ইচ্ছামতো সিএনজির স্ট্যান্ড বসিয়েছেন। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় এবং চাঁদা না দিলে চালকদের সিরিয়াল বাতিল করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করাসহ ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে মামলা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা জানান, প্রতিবার যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়ার সময় শ্রমিক সংগঠনের লোকজন তাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে যান। কাসেম নামে এক চালক বলেন, “প্রতিটি স্ট্যান্ডে দুজন করে দায়িত্বে থেকে চাঁদা আদায়সহ সিরিয়াল ঠিক করে দেয়। চাঁদা না দিলে হয়রানি করা হয়।”
এ বিষয়ে সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, “সিলেটে দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলো অনুমোদিত না হলেও কিছুটা অনুমোদিত বলা যায়। তবে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগে বারবার আবেদন করার পরও সুরাহা মেলেনি।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান জানান, “অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিগগিরই আমরা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান শুরু করব।”
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) মাহফুজুর রহমান বলেন, “সিলেটে কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই, তবে অনেক অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সিটি করপোরেশন যদি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে, আমরা তাদের সহযোগিতা করব।”
এ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন এবং প্রশাসন যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় যানজট এবং অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে।











