নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিট আবার চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে ইউনিটটি চালু করার পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে কয়েক দিন ধরে চলা গ্যাস সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, ইউনিট চালুর প্রায় ১০ মিনিট পর থেকেই দৈনিক ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টার্মিনালটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর এটি বিকল হয়ে পড়ে। এর ফলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি সামিট এলএনজির। দুটি টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এই সময়ে সামিটের টার্মিনাল থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চালু হওয়া ইউনিট থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে। প্রথম পর্যায়ের মেরামত শেষ হলে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আগে জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
গত ২৭ জুলাই প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই মেরামতের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এক্সিলারেট, সামিট কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কারও ছিল না।
সমুদ্রপথে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভাসমান স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
টার্মিনালটির একটি ইউনিট চালু হওয়ায় আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।











