অনলাইন ডেস্ক:
সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও অধিক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী করে তোলার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই নতুন পদক্ষেপটি দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগেই একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশ। এসব অস্ত্রের তালিকার মধ্যে ছিল আধুনিক অ্যাটাক ড্রোন, নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সম্পূর্ণ সক্ষম নতুন ধরনের টর্পেডো এবং মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এরই মধ্যে দুই কোরিয়ার মধ্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য আহত হওয়ার পর থেকেই গোটা অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন একটি থমথমে পরিস্থিতির মাঝেই নতুন এই মারণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া।
এদিকে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিজেদের যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততার জোরালো অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে, দেশটির পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে শক্তিশালী পাল্টা প্রচার শুরু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের কার্যকারিতা ও বাস্তবভিত্তিক বাস্তব সক্ষমতা পুরোপুরি যাচাই করতেই শনিবার এই বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের জোরালো দাবি অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় অস্ত্রটির মারাত্মক বিধ্বংসী ক্ষমতা নিখুঁতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরক শক্তি ব্যবহার করে মাত্র ১২ থেকে ১৩ হেক্টর আয়তনের একটি বিশাল লক্ষ্যবস্তুকে মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পুরোপুরি সক্ষম।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সামরিক ইউনিটগুলোকে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট ধরন বিবেচনা করে এসব অস্ত্রের উপযুক্ত সংস্করণ নির্বাচন এবং তা নিখুঁতভাবে ব্যবহারের বাস্তব সক্ষমতা পুরোপুরি প্রদান করা হবে।
কেসিএনএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, একটি শক্তিশালী মোবাইল লঞ্চার থেকে কমলা রঙের ভয়ংকর আগুনের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত আকাশের পানে ছুটে যাচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে আবার দ্বীপ অঞ্চলের নির্ধারিত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে একাধিক ক্লাস্টার বোমার নিখুঁতভাবে আঘাত হানার দৃশ্যও স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, শনিবারের এই বিশেষ সামরিক মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে চলতি বছরের গত এপ্রিলে তিনি নিজ কন্যা জু আয়েকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত ক্লাস্টার বোমার একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।











