অনলাইন ডেস্ক:
আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক উদ্বেগের মধ্যেই বুলগেরিয়ায় আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা সামান্য এগিয়ে থাকলেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর মধ্যে আজ রানঅফ লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রথম দফায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী ৫০ বছর বয়সী আন্দ্রে গিউরভের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ৬১ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা। তবে প্রথম দফায় ভোটার উপস্থিতি ছিল বেশ কম, যা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যোগ্য ভোটারদের মাত্র ২৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।
রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এক্সিট পোল প্রকাশ করা হবে এবং এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসার কথা রয়েছে আগামী সোমবার। বিশেষ করে গত এক মাসে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক বেশ কিছু ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা কুড়ানো এসব হামলার ফলে মূলত রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি এসব ঘটনায় প্রায় দুই ডজন নাবিকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া গত বুধবার সংঘটিত সি ড্রোনের আঘাতে গ্রিসের একটি কনটেইনার জাহাজও ডুবে গেছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই। এই বিষয়ে ইওতোভার সমর্থক হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ জোরালো মন্তব্য করে বলেছেন যে, এসব হামলার নেপথ্য ফলাফল একমাত্র রুশ ফেডারেশনের পক্ষেই সুবিধাজনক। আর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই প্রার্থীই মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের একটি দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে তা আহ্বানের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনী লড়াইয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইওতোভা বিজয়ী হতে পারলে তিনি হবেন বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোনো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট। মূলত এর আগে রাদেভ পদত্যাগ করে সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়ার পর গত জানুয়ারি মাসে ইওতোভা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ অতীতে ওই রাজনৈতিক জোটটিকে ক্রেমলিনঘেঁষা হিসেবে বিবেচনা করতেন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা আন্দ্রে গিউরভকে এবার সরাসরি সমর্থন যুগিয়ে চলেছে দেশটির পশ্চিমপন্থী এবং সংস্কারপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তিনি দীর্ঘ সময় ধরেই ইউক্রেনের প্রতি নিজের অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করে আসছেন এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কিয়েভের সঙ্গে একটি শক্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় গিউরভ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি বুলগেরিয়াকে এমন এক নির্ভরযোগ্য ন্যাটো মিত্র হিসেবে দেখতে চান, যা কার্যকর শক্তিশালী কূটনীতি ও কঠোর দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বইকো বরিসভসহ ডানঘেঁষা সারির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও নির্বাচনে গিউরভকে তাদের জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।











