নিজস্ব প্রতিবেদক:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কার মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ কোনোভাবেই বাংলাদেশকে “দিল্লির কৃতদাস” হতে দেবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পতিত রাজনৈতিক শক্তি পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের কথিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে রিজভী বলেন, “বাংলাদেশে আর পতিত ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না। যারা মানুষের বাঁচার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন চুরি ও পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করা হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “দীর্ঘদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার গুম ও নিখোঁজের ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “আমাদের যখন ১৭ বছরেও দমাতে পারেননি, তখন পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। জনগণ আর কখনও গুম কিংবা ক্রসফায়ারের রাজত্ব ফিরে আসতে দেবে না।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে কোনো গুম, ক্রসফায়ার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেবল অপরাধীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে কেউ গোলাম বানাতে পারবে না। দিল্লির কৃতদাস বানানোর যে কোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।”
নেতাকর্মীদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট কোনো দিন নয়, সবসময় সজাগ থাকতে হবে। কারণ দেশবিরোধী ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপচেষ্টা এখনও থেমে নেই।
সমাবেশে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্যসচিব আব্দুর রহিমসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











