দেশে বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসা ব্যয়ে হিমশিম খাচ্ছে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা। কিন্তু উচ্চ ব্যয়ে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। নানা ধরনের ক্যানসারে দেশের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তার মধ্যে স্তন, ফুসফুস, জরায়ুমুখ, লিভার, মুখগহ্বর, খাদ্যনালী, রক্ত ও পাকস্থলীর ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। আর এ রোগের চিকিৎসাও উচ্চ ব্যয়ের। ফলে চিকিৎসা খরচ মেটাতে অনেক পরিবারই সহায়-সম্বল হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। মূলত তামাক ব্যবহার, খাদ্যে ভেজাল, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও সংক্রমণে দেশে ক্যানসার রোগী বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে রোগ নির্ণয় বাড়ায় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু ওই অনুপাতে দেশে চিকিৎসা অবকাঠামো, রেডিওথেরাপি মেশিন কিংবা দক্ষ জনবল বাড়েনি। ফলে অধিকাংশ রোগী দেরি করছে চিকিৎসা শুরু করতেই। আবার অনেকে মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয় আর প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষ ক্যানসারে মারা যায়। ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির জন্য জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তিন মাসের আগে সিরিয়াল মিলছে না।

 

সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ফুসফুস, মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে ওসব মানুষ। দেশে বিভিন্ন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ওই রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সরকারি সংস্থা বিআইডিএসের এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী ক্যানসার চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই যাচ্ছে ব্যক্তির পকেট থেকে। ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির বড় ব্যয়ের কারণে বহু পরিবার দারিদ্র্যসীমায় নেমে গেছে। ক্যানসার চিকিৎসায় শহরাঞ্চলের পরিবারগুলো গড়ে মাসে ৪ হাজার ১৯২ টাকা ব্যয় করছে আর গ্রামাঞ্চলে এ ব্যয় ৩ হাজার ১০৯ টাকা। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসায় গড়ে ব্যয় হয় প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ, রোগ নির্ণয় পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার এবং শয্যা ভাড়া সবচেয়ে বড় ব্যয় খাত। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মোট ব্যয়ের ২৬ শতাংশই যাচ্ছে ওষুধে, ১৭ শতাংশ রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় এবং ২৩ শতাংশ অস্ত্রোপচারে। ফলে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ঋণ, জমি বিক্রি, সঞ্চয় ভাঙা কিংবা আত্মীয়দের সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।

 

এদিকে এ প্রসঙ্গে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশে পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস, মুখগহ্বর ও লিভার ক্যানসার বেশি দেখা যায়। আর নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ বেশি। তাছাড়া শিশুদের মধ্যেও ব্লাড ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসারের হার বাড়ছে। ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয় এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।