দেশে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৭ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নজরদারি আরও জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের শিশু হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত ১১ শিশুর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত কারণে হয়েছে। একই সময়ে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই জটিল বলে জানা গেছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সারাদেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে শয্যাসংকট তৈরি হয়েছে, অনেক জায়গায় শিশু রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং সময়মতো টিকা না নিলে শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তারা অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে সারাদেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।