‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ থেকে ‘কেরালা’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি, আদালতে মামলা

অনলাইন ডেস্ক:

মুক্তির কয়েক মাস পর আবারও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছে আলোচিত ও বিতর্কিত চলচ্চিত্র ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’। ছবিটির সেন্সর ছাড়পত্র চ্যালেঞ্জ করে এবং নাম থেকে ‘কেরালা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার দাবিতে কেরালা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত।

 

বিতর্কিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩ সালে। এরপর চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’। মুক্তির আগে এবং পরে একাধিক আইনি বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। তবে চার মাসের ব্যবধানে আবারও নতুন বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে সিনেমাটি।

 

কেরালার কোচির বাসিন্দা যোহান জর্জের করা আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি আদালতে ওঠে। শুনানির সময় বিচারপতি পি. ভি. কুনহিকৃষ্ণন প্রশ্ন তোলেন, ছবিটি ইতোমধ্যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এবং অসংখ্য দর্শক তা দেখে ফেলেছেন। সে ক্ষেত্রে এতদিন পর মামলাটির কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

 

তবে আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী চেলসন চেম্বারাথি আদালতকে জানান, সিনেমাটি এখনও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং হচ্ছে। ফলে বিষয়টি এখনো প্রাসঙ্গিক এবং আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই যুক্তির পর আদালত মামলাটি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ছবিটির বিষয়বস্তু কেরালা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রযোজকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬, ১৯৭ এবং ২৯৯ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জাতীয় সংহতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, যেহেতু ১ মে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়েছে, তাই প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডকেও মামলার পক্ষভুক্ত করা উচিত। আবেদনকারী এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের স্ক্রিনশট এবং কনটেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল অফিসারের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনলাইনে প্রচারিত কিছু ক্লিপ কেরালার জনগণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মনোভাব উসকে দিতে পারে। এ কারণে ছবিটি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

 

এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি কেরালা হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ ছবিটির মুক্তির ওপর দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিল এবং সেন্সর বোর্ডকে ছাড়পত্র পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নির্মাতাদের আপিলের পর পরদিন ডিভিশন বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে নির্ধারিত সময়েই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

 

এখন মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ভবিষ্যৎ।