নিজস্ব প্রতিবেদক:
দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের জন্য হেলিকপ্টার কেনা হচ্ছে। তাতে পুলিশের আধুনিকায়ন ও অপরাধ দমন কৌশলে পরিবর্তন আসবে। ওই লক্ষ্যে পুলিশের জন্য ৬টি হলিকপ্টার ক্রয়, নতুন ৩টি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন ও কূটনৈতিক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আর ওসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে পুলিশের অপারেশনাল গতি। বর্তমানে পুলিশকে অপারেশনাল কাজে সেনাবাহিনী বা অন্যান্য সংস্থার আকাশযানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের অপরিহার্য হয়ে পড়ছে দুর্গম অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা, বড় ধরনের দাঙ্গা দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ ও জরুরি উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টারের ব্যবহার। বিশেষ করে সুন্দরবন বা পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো এলাকায় অপরাধী শনাক্তকরণে সবচেয়ে বেশি জরুরি আকাশপথের নজরদারি। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দ্রুততম সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষায়িত একটি অ্যাভিয়েশন ইউনিটের প্রয়োজন। আর সেজন্যই পুলিশের জন্য হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। জিটুজি পদ্ধতিতে ৪২৮ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৬ টাকায় রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার দুটি কিনতে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয় এবং মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। আর ওই চুক্তি অনুযায়ী দুই কিস্তিতে মোট ২৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫২১ টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে পুলিশের অ্যাভিয়েশন ইউনিট গঠনের পাশাপাশি পাইলট তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ইতিমধ্যে চারজন পুলিশ অফিসারকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে পাইলট হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যাভিয়েশন সেক্টরে কাজ করতে আরো ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যেতেই পুলিশের জন্য হেলিকপ্টার কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ অ্যাভিয়েশন ইউনিটসহ নতুন তিনটি ইউনিট গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। হেলিকপ্টার কেনার জন্য প্রায় ৪২৯ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। তবে বাজেটের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় সেগুলো দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এখন কর্তৃপক্ষআরো চারটি হেলিকপ্টার কেনার কথাও ভাবছে।
সূত্র আরো জানায়, পুলিশের জন্য শুধু হেলিকপ্টার কিনলেই হবে না, তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল। পুলিশ বাহিনী ইতিমধ্যেই নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পাইলট প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সব মিলিয়ে অনেকদূর এগিয়ে যাচ্ছে অ্যাভিয়েশন পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ। ফলে দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমন, দুর্গম-প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা ও নজরদারিতে পুলিশ আরো তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারবে। ক্রয় করা হেলিকপ্টারগুলো ৮০০ কিলোমিটার ওপরে ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে এবং ৫ হাজার কেজি ওজন পরিবহনে সক্ষম। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের চার কর্মকর্তা পাইলট হয়েছে। বিগত ২০২১ সালে তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আর্মি অ্যাভিয়েশন স্কুলে পাঠানো হয়েছিলো। আর ২০২২ সালে তাদের একক বিমান প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকজন এসআই ও কনস্টেবল র্যাবের এয়ার উইংয়ের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। একজন সহকারী মহাপরিদর্শক পুলিশ অ্যাভিয়েশন উইংয়ের দায়িত্বে থাকবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের কোনো স্থানে বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে সহজেই যেন পুলিশ যেতে পারে সেজন্য অ্যাভিয়েশনের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, রাশিয়া থেকে কেনা হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনতে সরকার কাজ করছে। দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে চিঠি চালাচালি চলছে। আশা করা যায় শিগগিরই পুলিশ অ্যাভিয়েশনে হেলিকপ্টার দুটি যুক্ত হবে।











