ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। সোমবারের রায় ঘোষণার সময় বিচারক সঞ্জয়কে বলেন, “আপনাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে।” একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং হত্যার জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ধর্ষণের জন্য ৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানান।

এই ঘটনা ৯ আগস্ট ঘটেছিল, যখন আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ভবনের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সিবিআই তদন্তে প্রমাণ পায় যে, সঞ্জয়ের ডিএনএ নমুনা ভুক্তভোগীর দেহে পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। সিবিআই আরও জানায়, ভুক্তভোগী হত্যাকারী থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং সঞ্জয়ের শরীরে তার আত্মরক্ষার আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তবে, সঞ্জয়ের আইনজীবী দাবি করেছেন, ঘটনাস্থল এমন একটি জায়গা যেখানে ২৪ ঘণ্টা লোকজন উপস্থিত থাকেন, তাই সঞ্জয় একা এই ঘটনা ঘটাতে পারেননি। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। ভুক্তভোগীর পরিবারও একই মত প্রকাশ করেছে এবং তারা সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সিবিআই তদন্তের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর পরিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অনাস্থা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ১৩ ডিসেম্বরের পর সিবিআই চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, যার কারণে আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি জামিন পেয়ে যান। এই ঘটনায় জনমানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, এবং দেশজুড়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস