অনলাইন ডেস্ক:
মদের আসরে সামান্য বচসার জেরে বন্ধুকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করেছিলেন এক ব্যক্তি, কিন্তু টানা ২০ দিন ধরে নিহত বন্ধুর দুঃস্বপ্নে তাড়িত হয়ে শেষ পর্যন্ত অনুশোচনায় ভুটে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন সেই খুনি। ভারতের মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভলির মোথাগাঁও এলাকায় সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
গত ৯ অক্টোবর গভীর রাতে বন্ধু বিশাল কদম ও প্রভু কারাকাডে একসঙ্গে মদ্যপান করার সময় তাদের মধ্যে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রভু এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই বিশালের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ঘাবড়ে গিয়ে প্রভু তার বাড়ির মালিক সন্দেশ মাত্রেকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। পরে দুজনে মিলে বিশালের মরদেহ একটি বস্তায় ভরে রাতের আঁখারে খালের ধারের একটি নির্জন স্থানে ফেলে আসেন।
প্রাথমিকভাবে প্রভু ভেবেছিলেন যে তিনি খুব সহজেই এই নৃশংস অপরাধের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু এর পরই তার জীবনে শুরু হয় অন্য এক মানসিক যন্ত্রণা ও অশুভ অনুভূতির খড়া। গত ২০ দিন ধরে প্রতি রাতে ঘুমাতে গেলেই বিশালের ভূতুরে রূপ ও বিভিন্ন দুঃস্বপ্ন তার চোখের ঘুম কেড়ে নেয়। অবিরত এই তীব্র মানসিক চাপে ও অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে প্রভু শেষ পর্যন্ত থানে পুলিশের কাছে উপস্থিত হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই প্রভু শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু প্রতি রাতে বারবার ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে না পেরে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত প্রভু এবং মরদেহ গুম ও প্রমাণ লোপাটে সহায়তার অভিযোগে তার বাড়ির মালিক সন্দেশকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে দুই আসামিকে কল্যাণ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শুনানি শেষে তাদের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।











