পরীক্ষা চলবে, তবে চট্টগ্রামে স্থগিত, জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যায় পরীক্ষাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এরপর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব এলাকায় পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। একটি বোর্ডের পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

 

তবে কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানান। সড়ক অবরোধের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।