পল্লবীতে শিশুর নির্মম হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার সোহেল রানার ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করে এই আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতিতে ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পুলিশ।

 

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আগেই আটক করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে সেখানে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

 

পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পুরো ঘটনার পেছনের নেপথ্য উদঘাটন করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। “কে বা কারা আর জড়িত আছে, তা নিশ্চিত করতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি,” জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। পরে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে।

 

তদন্তে আরও জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা একটি স্থানীয় স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়। পরে মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস করে তোলে।

 

এদিকে আদালত সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে ঘিরে উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিতে রিমান্ড আবেদন বিবেচনায় নেয়।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে।