পাকিস্তানে সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা: নিহত ৩৪, আহত বহু

অনলাইন ডেস্ক:

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নু শহরে সেনানিবাসে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন সেনাসদস্য এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া, ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, ইফতারের পর বিস্ফোরক বোঝাই দুটি গাড়ি ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারী চারজনসহ মোট ১৬ জন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর পাঁচ থেকে ছয়জন অস্ত্রধারী সেনানিবাসে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় তারা সফল হতে পারেনি। সেনাবাহিনী গোলাগুলি চালিয়ে ছয়জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।

বান্নু হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ নওমান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন শিশু, তিনজন নারী এবং তিনজন পুরুষ বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩২ জনের অবস্থা গুরুতর এবং তারা চিকিৎসাধীন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুর নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরক বোঝাই দুটি গাড়ির মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, আফগান নাগরিকরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সাথে আফগান নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়েছে। তারা আরো বলেছে, এই হামলা আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত খাওয়ারিজ রিং নেতাদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে।

এই হামলার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেছেন, “পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের সময় এই ধরনের হামলা অত্যন্ত জঘন্য কাজ।” প্রধানমন্ত্রী শরিফ বলেন, “পাকিস্তানের শত্রুদের এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।”

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, “সীমান্তের ওপার থেকে আসা এই হুমকিগুলোর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখে।” তারা আফগান সরকারকে তাদের মাটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তালেবান সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এই ধরনের হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।