পুশ ইন ইস্যুতে ভারতকে দোষারোপ নয়: জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সরকার বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ রয়েছে নয়াদিল্লির। তার ভাষায়, “৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, এখন সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। তাই এখন যে পুশ ইন হচ্ছে সেটা ইচ্ছাকৃত হচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এই সমস্যা সহসাই সমাধান হয়ে যাবে।”

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হবে নির্দলীয়। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার তাতে বাধা দেবে না। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নাম বা পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, “যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে কারও ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না।”

 

ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদী নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজের আদলে তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে আসা পানি ধরে রেখে শুষ্ক সময়ে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ উদ্যোগ প্রকল্প আকারে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, তিস্তা এলাকায় ব্যারেজ বা রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হবে।

 

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ধাপে ধাপে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বর্তমানে মাত্র আটটি উপজেলায় ১০১ শয্যার সুবিধা রয়েছে।

 

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলেও জানান তিনি। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

অর্থনীতি ও অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সমন্বয়ের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম কম রয়েছে।

 

শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজারে বর্তমান ধরনের সংকট দেখা যায়নি, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হয়েছিল।

 

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেওয়া এসব বক্তব্য আগামী দিনের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।