নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সে সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি এবং শ্রমিকদের আন্দোলন পরিস্থিতির কারণে নিজের পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেন।
রোববার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্তত তিনশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকাল নয়টার দিক থেকে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন এবং এ সময় বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। টানা অবরোধের ফলে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা তিনটা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা মিরপুর–১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এই তীব্র সংঘর্ষের জেরে মিরপুর–১০, মিরপুর–১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।











