প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টিআইবি প্রধানের বৈঠক, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উঠে আসে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

সাক্ষাৎটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

 

দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছে টিআইবি। বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, “সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে আমরা সরকারকে কিছু সুপারিশ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলোকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।”

 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশকে দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে আরও দৃশ্যমান করতে ২০২৮ সালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনফারেন্স বাংলাদেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে এতে একমত হয়েছেন।”

 

টিআইবি প্রধান বলেন, প্রতি দুই বছর পরপর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ায় এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া এই আয়োজন করেছে। বাংলাদেশে এই সম্মেলন হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন।

 

বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের সঙ্গে নাগরিক সমাজের এ ধরনের আলোচনা নীতিগত সংস্কারের পথকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই বৈঠককে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।