নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এরআগে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, একাধিকবার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন এবং ফল আগাম উন্মুক্ত হওয়ার বিতর্ক হয়েছিল। এবার সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে আজ রোববার দুপুর ১২টায় এই ফল প্রকাশ করা হয়।
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয়ের মোট ৬,৪৫,০৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪,১৯,৯৮২ জন। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর বিবেচনায় পাসের হার ৩৮.৮৭ শতাংশ। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি-৪৩,৩৫৪ জন ছাত্রী (৫৪.৭১%) এবং ৩৫,৮৯২ জন ছাত্র (৪৫.২৯%) বৃত্তি পেয়েছে।
মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩২,৯৬৫ জন পেয়েছে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) এবং ৪৬,২৮১ জন পেয়েছে সাধারণ বৃত্তি। বিদ্যালয়ভিত্তিক হিসাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৫৭,৯৬২ জন এবং কিন্ডারগার্টেন থেকে ৯,৯৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪,৬৮২টি বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলার শিক্ষার্থীরা, সবচেয়ে কম ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলায় এবং সবচেয়ে বেশি ৮,৮৯৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে দিনাজপুর জেলায়।
বর্তমানে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে ট্যালেন্টপুলে মাসিক ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিতে মাসিক ৪৫০ টাকা হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য নিশ্চিত করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।”
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।
এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।











