নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনের সপ্তম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় প্রতিটি আটক কেন্দ্রে ছিল নির্যাতনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি জেরা কক্ষ। প্রমাণ ধ্বংসের চেষ্টা সত্ত্বেও কমিশন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্যাতনের আলামত শনাক্ত করতে পেরেছে।
কমিশন জানায়, র্যাব-২ ও সিপিসি-৩ ইউনিটে পাওয়া গেছে ঘূর্ণায়মান চেয়ার, র্যাব-৪ ও ডিবিতে ‘যম টুপি’, আর টাস্কফোর্স ইন্টাররোগেশন (টিএফআই) সেলে পাওয়া গেছে মানুষকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের যন্ত্র ‘পুলি সিস্টেম’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব জেরা কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ ছিল। বাইরে যাতে কোনো চিৎকার না পৌঁছায়, সে জন্য কখনও উচ্চস্বরে গান বাজানো হতো। নির্যাতিতদের চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে, অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা হতো। খাবার দেওয়া হতো প্রহরীদের অর্ধেক বরাদ্দ অনুযায়ী।
শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি ছিল মানসিক নিপীড়ন—নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, নিঃসঙ্গতা, ও গুম করে রাখার আতঙ্কে অনেকেই চরম যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে আদালতে হাজির না করে দীর্ঘ সময় গুম করে রাখা হতো, যেন কোনো আইনি জবাবদিহি না থাকে।
প্রতিবেদন বলছে, এসব নির্যাতন নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালানো হতো। এর জন্য আলাদা বাজেট, যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং শীর্ষ মহলের অনুমোদন ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
কমিশনের মতে, “এটি ছিল সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক একটি অপারেশন, যা শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, বরং ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ ও অনুমোদন ছাড়া সম্ভব হতো না।”
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের নয়, বরং শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সমানভাবে বহন করতে হবে— যারা এ কাজে সম্মতি দিয়েছেন বা চোখ বন্ধ করে থেকেছেন।











