জেলা প্রতিনিধি:
এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে রয়েছে বসতঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ। ঘটনাটি সিলেট নগরীর ৪২ নং ওয়াডের শেখ পাড়া গ্রামে।
এঘটনায় আদালতে সি.আর মামলা (মামলা নং- ৮৫/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। গত ১১ জুন সিলেটের মাননীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলগ্রহণকারী ০৫ নং আদালতে শেখপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার স্ত্রী সাহানা বেগম (৪৯) বাদী হয়ে এ নালিশি আরজি দাখিল করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ফয়েজ, মৃত শফিক মিয়ার পালিত মেয়ে ফাতেমা খানম, আতিকুর রহমান, বসির মিয়া, খালেদ হোসেন জগলু ও সাকিফ। অভিযুক্তরা সকলেই স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বাদী সাহানা বেগম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়াকে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেন। গত ১৮ এপ্রিল ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাৎ, মূল্যবান দলিলপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং বসতঘর থেকে বিধবা সাহানা বেগমকে উচ্ছেদের চক্রান্ত শুরু করে।
নথি অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে ঘরে প্রবেশ করে বাদীকে ঘর ছাড়তে চাপ দেয়। অন্যথায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীর ওপর শারীরিক হামলা, শ্লীলতাহানি ও গুরুতর জখম করা হয়। ওই সময় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে গত ৪ জুন দ্বিতীয় দফায় আসামীরা পুনরায় ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। একই সাথে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। ডাক-চিৎকারে স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামীরা বসতঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সরে পড়ে।
ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় বাদীকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৪ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপোষ-নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়া এবং থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৩৮৫/৫০৬/৩৪ ধারায় আনীত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত চোরাচালানের এখন সময়ের ডন, অস্ত্রবাজ ও সন্ত্রাসী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি পলাতক রাহেল সিরাজের সম্পর্কে বোন জামাই পরিচয়ে ফ্যাসিস্ট আমলে ছিলেন বেপরোয়া দক্ষিণ সুরমা বিএনপি বর্তমান সেক্রেটারি বজলুর রহমান ফয়েজ। ওই সময়ে নিরীহ লোকদের নাশকতা মামলায় আসামী করে, মামলা এ পুলিশী ধরপাকড় থেকে রক্ষার নামে আথিক ফায়দা নিতেন তিনি। এতে ভূক্তভেগীদের ক্ষেপিয়ে দিতেন পতিত আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে। এছাড়া ওপেন সিক্রেট দক্ষিণ সুরমা এলাকায় রাহেলের চোরাচালান নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রন করতেন তিনি। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলাল বক্সের জমি জমার দেখবালের মুহুরি পরিচয়ে তৎকালীন সরকার ঘরানার হিসেবে জাহির করতেন।











