অনলাইন ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে আটক করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত লোকজন তাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে আটকের সময় কোনও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি, যার ফলে এ ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (২৯ মার্চ) তার আইনজীবী মাহসা খানবাবি এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বোস্টন ফেডারেল আদালতে এই বিষয়ে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
রুমিয়াসা অজটুর্ক, ৩০ বছর বয়সী তুর্কি নাগরিক, যিনি টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের পিএইচডি গবেষক ছিলেন, তাকে মঙ্গলবার রাতে তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আটক করা হয়। তার বন্ধুরা জানান, তিনি ইফতার করতে যাচ্ছিলেন এবং তখনই তাকে থামানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ ঢাকা সাত ব্যক্তি তাকে নিয়ে যাচ্ছেন, এবং তিনি চিৎকার করছেন।
আইনজীবী মাহসা খানবাবি বলেন, “তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না এবং তার সাথে যোগাযোগও করতে পারিনি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার জন্য ভিসা দেওয়া হয়েছিল।”
এই ঘটনা নিয়ে হতবাক হয়েছেন প্রতিবেশীরা। সামারভিলের আবাসিক এলাকায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। সফটওয়্যার প্রকৌশলী মাইকেল ম্যাথিস বলেন, “এটা অপহরণের মতো মনে হয়েছে।”
টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সুনীল কুমার এই ঘটনায় অবগত হওয়ার পর বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।”
ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিনিধি আয়ান্না প্রিসলি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি সাংবিধানিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার ভয়াবহ লঙ্ঘন। তাকে এখনই মুক্তি দিতে হবে।”











