ফুটপাত ও সড়ক জঞ্জালমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) পরিচালিত অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ফুটপাত ও সড়ক সম্পূর্ণ জঞ্জালমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এ সময় বলেন, ‘আজ শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান নয়। আমি বারবার বলেছি, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এ ধরনের জঞ্জাল রয়েছে এবং যেগুলো আমার প্রিয় নগরবাসীর হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করছে, প্রতিটি জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মিরপুর ১ নম্বর, শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের থানা ও ওয়ার্ডের নগরবাসী একটি চাহিদা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। মিরপুর ১ নম্বরে অবৈধভাবে হকাররা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে নিজেদের মতো করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এই হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন না; ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই তারা এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন।’

ডিএনসিসি প্রশাসক যোগ করেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, জনগণের হাঁটাচলার রাস্তা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এর আশপাশে অনেকগুলো মার্কেট রয়েছে। এসব মার্কেটের অনেক কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ ব্যক্তিগতভাবে আমাকে এ বিষয়ে বহুবার অভিযোগ করেছেন।’

অভিযানের ব্যাপ্তি ও সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সকাল ১১টায় অভিযান শুরু করেছি, এখন বাজে সাড়ে ১২টা। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। আমরা রাস্তায় নামার পর এ এলাকার সাধারণ মানুষ, মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা এবং অনেক দোকানি ভাই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আমি বারবার বলেছি, যত দিন দায়িত্ব পালন করবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা নির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করবো। আমি ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করতে চাই।’

এসময় নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমাদের সহযোগিতা করবেন। গতবার ১০ নম্বরে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরবাসীর কাছে হস্তান্তর করেছি। সেখানে গাছ লাগিয়েছি, বৃক্ষরোপণ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ডেকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ফুটপাতে রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। গতকালও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন ও পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। তাকে সহযোগিতা করে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব, আমাদের সবার দায়িত্ব।’

ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘পরাজিত শক্তি, যাদের আমরা গুপ্ত বলি, ফ্যাসিবাদী শক্তি— যারা পালিয়ে গেছে, তারা সবাই মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। আমরা বারবার বলছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমি নিজে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ— আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে দেবো না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত হাতে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবো।’

মিরপুর ১০ নম্বরের মতো মিরপুর ১ নম্বরেও একই চিত্র দেখা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, ‘অভিযান চলমান থাকবে। ১০ নম্বরের মতো একইভাবে মিরপুর ১ নম্বরকেও হাঁটাচলার উপযোগী করার ব্যবস্থা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের অনেক স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করছেন। সাধারণ মানুষও আছেন, যারা উচ্ছেদের পর বিষয়টি তদারকি করবেন। পুলিশের ডিসি সাহেব নিজে উপস্থিত আছেন। তার পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি তদারকি করবেন। কেউ আবার বসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’