ফ্রান্সের গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা, ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স সেখানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোট গত মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। ট্রাম্প ২০২৩ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারোট বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনই কোন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে যদি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে ইউরোপ অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে।”

এছাড়া, ব্যারোট আরও বলেন, “গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। আমাদের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত যাতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।”

ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্ক ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, এর মালিক এখানকার বাসিন্দারা।” এই অবস্থায়, ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ২ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

মাত্র ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ অংশ বরফে আচ্ছাদিত হলেও এটি বিরল খনিজ সম্পদের ভা-ার। এই খনিজগুলো ব্যাটারি এবং উচ্চ-প্রযুক্তির যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়, আর এর কারণেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এটি প্রথমবার নয় যে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালে তার প্রথম প্রেসিডেন্সি মেয়াদেও তিনি এই দ্বীপটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু ডেনমার্ক তখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগিদ, যিনি ডেনমার্ক থেকে আরও স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, তিনি দ্বীপটি বিক্রি করার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অর্থনীতি ডেনমার্কের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল, তবুও তার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে আরও বড় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হতে পারে।