অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)-এর অনুরোধে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে। তবে, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ডিসকাউন্ট বা কর সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে আদানি পাওয়ার।
এর আগে, শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম এবং ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে পেমেন্ট বিলম্ব হওয়ার পর, বাংলাদেশ আদানির কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধে সম্মতি জানিয়ে আদানি পাওয়ার সরবরাহ পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিল। তবে, বর্তমানে গ্রীষ্মের চাহিদা বৃদ্ধির আগে এবং বিপিডিবির অনুরোধে, আদানি পাওয়ার পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে রাজি হয়েছে।
এছাড়া, বিপিডিবি-র আরো কিছু দাবি থাকলেও তা মানতে রাজি হয়নি আদানি। এর মধ্যে রয়েছে আগের ডিসকাউন্ট ব্যবস্থা আবারো চালু করার দাবি। এক বাংলাদেশি সূত্র জানিয়েছে, আদানি পাওয়ার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, এমনকি ১ মিলিয়ন ডলারও না।
বিপিডিবি-র চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও জানিয়েছেন, এখন আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বড় কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতি মাসে ৮৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি পেমেন্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ডিসেম্বরে এক সূত্র জানায়, বিপিডিবি-র কাছে আদানির প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে, যদিও বিপিডিবি-র চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, এই পরিমাণ আসলে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার।
বিদ্যুতের শুল্ক কিভাবে হিসাব করা হবে, তা নিয়ে মূলত বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিপিডিবি আদানি পাওয়ারের কাছে মিলিয়ন ডলার মূল্যের কর সুবিধা এবং মে মাস পর্যন্ত এক বছরের ডিসকাউন্ট প্রোগ্রাম পুনরায় চালু করার অনুরোধ করেছিল, তবে আদানি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।











