বাগেরহাটে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক

জেলা প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের বিভিন্ন গ্রামে একের পর এক পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত সাড়ে ৩ মাসে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ চুরি হয়েছে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে। এর ফলে শত শত বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং এ ঘটনাগুলো থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো ট্রান্সফরমার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব চুরির পেছনে দক্ষ চোরচক্র রয়েছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় চুরি হয়েছে, এবং সেগুলোর মধ্যে মূল্যবান তামার তার চুরি করে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে তারা তার অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটলে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আর বিদ্যুৎ সংযোগ আবারো চালু না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রান্সফরমার চুরি একটি জটিল বিষয়, যা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোক ছাড়া সম্ভব নয়। থানায় এজাহার দায়ের হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো ট্রান্সফরমার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে, চুরির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক সুশান্ত রায় জানান, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, গ্রাহকদের সচেতনতা ও প্রশাসনের সহযোগিতা না হলে এই সমস্যা মেটানো কঠিন হবে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মো. রোকন উজ্জামান খান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির কারণে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, গ্রাহকরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের দাম তাদের দিতে হবে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

এদিকে, বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ জানিয়েছেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ একাধিক টিম নিয়ে কাজ করছে এবং দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশাবাদী।