অনলাইন ডেস্ক:
“ওয়াইআর৪” নামের একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, যা আঘাত হানলে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এই গ্রহাণুর আঘাত পৃথিবীতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
গ্রহাণুটির আকার ৪০ থেকে ১০০ মিটার এবং বিজ্ঞানীরা একে ‘সিটি কিলার’ বা ‘শহরের খুনি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসা, রসকসমস, সিএনএসএ, ইসরোসহ অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যদি গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটবে, যা ৮০ লাখ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান হবে এবং এটি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি যদি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তবে ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি অঞ্চল ধ্বংস করতে পারে।
এছাড়া, গ্রহাণুটির আঘাতের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, সুদান, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডরের মতো দক্ষিণ এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলগুলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে এবং আরও পর্যবেক্ষণের পর সঠিক অঞ্চল নির্ধারণ করা যাবে।
বর্তমানে ২০২৪ ওয়াইআর৪-এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা দুই শতাংশ এবং বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এর গতিপথ ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হয়ে ঝুঁকি কমে যেতে পারে। মার্চ মাসে টেলিস্কোপের মাধ্যমে গ্রহাণুটির আরও ভালো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
নাসা জানিয়েছে, ১০০ বছরে একবার মাঝারি আকারের গ্রহাণুর পৃথিবীতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যায়। বর্তমানে, বিজ্ঞানীরা ২০২৪ ওয়াইআর৪-এর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এটি পৃথিবীর জন্য কতটা বিপজ্জনক হবে, তা জানার জন্য আরও গবেষণা চলছে।











