জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস কিংবা দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা আলী মিয়ার নির্মাণাধীন একতলা ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমেছিলেন শ্রমিকরা। একে একে চারজন ভেতরে প্রবেশ করার পর তারা আর ফিরে আসেননি। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে একজন শ্রমিক ট্যাংকে নামেন। তার কোনো সাড়া না পেয়ে আরও একজন ভেতরে যান। এরপর এভাবে মোট চারজন শ্রমিক সেখানে প্রবেশ করেন। কিন্তু কেউই আর ফিরে আসেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এই মৃত্যু হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, ভেতরে সরাসরি প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ভেঙে উদ্ধার কাজ চালাতে হয়। পরে বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে চার শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”











