অনলাইন ডেস্ক:
ফেব্রুয়ারির সোমবারে সঞ্জয় রায়কে দেওয়া হবে তার সাজা। গতকাল শনিবার, ৫ মাস ৯ দিন পর কলকাতার শিয়ালদহ আদালত পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলার রায় ঘোষণা ছিল ভারতজুড়ে আলোচিত, কারণ গত বছর আগস্টে ঘটনার পর পুরো দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
বিচারক অনির্বাণ দাস রায়ে বলেন, সিবিআই ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারক সতর্ক করে দেন যে সঞ্জয় রায়কে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। এই শুনানির সময় সঞ্জয় রায় দাবি করেন, “আমি কিছু করিনি, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।” কিন্তু বিচারক বলেন, “সব প্রমাণ জমা পড়েছে এবং সেগুলির ভিত্তিতেই রায় দেওয়া হয়েছে।”
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নিহত চিকিৎসক ৩৬ ঘণ্টার ডিউটি শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার খেয়ে হাসপাতালে সেমিনার হলে বিশ্রাম নিতে যান, কিন্তু পরদিন তার মরদেহ অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে পুলিশ আত্মহত্যার কথা বললেও পরে জানা যায়, এটি একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা।
এই ঘটনাটি পুরো ভারতের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে চিকিৎসকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদে নেমে আসে। ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ সঞ্জয় রায় নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে, এবং পরে সিবিআই তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও টালা থানার পুলিশ কর্মকর্তা অভিজিৎ ম-লকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এই মামলায় ৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, এর মধ্যে ছিল নিহত চিকিৎসকের পিতা, সিবিআই তদন্তকারী অফিসার, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ এবং নিহতের সহকর্মীরা। ১৬২ দিন পর আজ আদালত রায় ঘোষণা করে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া এবং এর সমাপ্তি এখনও পশ্চিমবঙ্গের জনগণের মধ্যে আলোচনার বিষয়।











