অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে আগের চেয়েও আরও কঠোর ও বিস্তৃত জবাব দেওয়া হবে বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংঘাত শুধু পশ্চিম এশিয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আরও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তবে তা আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি কঠোর ও ব্যাপক হামলার মুখে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর কেবল পশ্চিম এশিয়াতেই আটকে থাকবে না।
তিনি আরও যোগ করেন যে, শত্রুপক্ষের সব ধরনের সামরিক ও অন্যান্য স্থাপনা এবং সম্পদকে নিখুঁতভাবে নিশানা করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করছে।
ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের
আকরামিনিয়া তার বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন করে সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান ইরানের সরাসরি হামলার আওতায় চলে আসতে পারে। এই সমস্ত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ইরানের হামলার নাগালের মধ্যে বিশ্বের যে প্রান্তেই অবস্থান করুক না কেন, তাদের ওপর নিশ্চিতভাবে আঘাত হানা হতে পারে।
এদিকে ঠিক এই মুহূর্তে ইরানের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে স্থলভাগে একটি নতুন যুদ্ধফ্রন্ট বা লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দেশটির এই সামরিক মুখপাত্র।
তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ইরানের পশ্চিম সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে গোপনে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র ও নানা সরঞ্জাম দিয়ে জোরালো সহায়তা করে আসছিল শত্রুপক্ষ। মূলত এই গোষ্ঠীগুলোকে হাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেই ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ
তবে সময়মতো ইরানের সামরিক ইউনিটগুলো দ্রুত মোতায়েন করার পাশাপাশি ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর গোপন অবস্থানগুলোতে আকস্মিক ও আগাম অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই শত্রুর সেই বিপজ্জনক পরিকল্পনা সফলভাবে নস্যাৎ ও ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।











