যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য মেক্সিকোতে আশ্রয়কেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার পর, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে দেশটি। এরই মধ্যে, মেক্সিকো মার্কিন সীমান্তের কাছে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা মোট ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে, যার মধ্যে ৯টি মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এবং ৩টি বহিষ্কৃত বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত হবে।

‘মেক্সিকো আপনাকে স্বাগত জানাবে’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এসব আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম এই সপ্তাহে বলেন, “মেক্সিকো সরকার অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের আগে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করবে।” তিনি আরও জানান, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র দিনের শেষের দিকে এবং বাকিগুলো সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে রান্নাঘর, বাথরুম, খাবার ঘর, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরামর্শ প্রদান করা হবে।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের সীমান্তের ওপারে, মেক্সিকোর মাতামোরোস শহরে নৌবাহিনীর কর্মীরা একটি বিশাল খেলার মাঠে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী জলপাই-সবুজ তাঁবু স্থাপন করেছে এবং নির্বাসিতদের জন্য ধাতব কাঠামো যুক্ত তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই আশ্রয়কেন্দ্রটি প্রায় তিন হাজার লোকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হবে। শহরের মেয়র আলবার্তো গ্রানাডোস জানিয়েছেন, “আমরা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আশ্রয় দিতে পারব।”

এছাড়া, মেক্সিকো সরকার ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছে, তারা একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটকের মুখোমুখি অভিবাসীরা সতর্কতা পাবে।

টিজুয়ানা শহরেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, রেইনোসার মেয়র কার্লোস পেনা সতর্ক করেছেন যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতা সীমিত, এবং পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।

অপরদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আরও এক হাজার ৫০০ সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।