যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও হাসপাতাল থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতারের অনুমতি

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’—যেমন গির্জা, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতারের ওপর সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে এসব স্থান থেকেও অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা যাবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বেনজামিন হাফম্যান দুটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। প্রথমটি সংবেদনশীল স্থাপনা থেকে গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে এবং দ্বিতীয়টি হলো, বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা। নতুন নীতির অধীনে, যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে দু’বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন, তবে তাকে দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব স্থানে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এর মতো সংস্থাগুলোর জন্য এই বিধিনিষেধ আর থাকছে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপের কারণে অভিবাসীদের পরিবার এবং তাদের সন্তানরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ‘দ্য সেন্টার ফর ল অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি’ নামে একটি আইন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নীতির বাস্তবায়ন হলে অভিবাসীরা স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ সহায়তা, স্কুলে যাওয়া এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী নির্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটকের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাঠে নামানোর অঙ্গীকার করেছে।