ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

যুদ্ধবিরতির পর শান্তি চুক্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের

প্রকাশিত: 25 June 2025, 2:15 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে ফিরছে ইসরায়েল ও ইরান। সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখনই সময় একটি সামগ্রিক শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার।”

যদিও আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে উইটকফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামের সামরিক রূপান্তর সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।

এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও তার প্রভাব নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিত্বকারী ডরোথি শি জানান, ইরান ৬০% ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ একাধিক পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

শি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাস এবং ইসরায়েলসহ অঞ্চল ও বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে, তিনি ইরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মানার ও শান্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও আহ্বান জানানো হয়, যেন আইএইএ-কে পূর্ণ সহায়তা দিয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ফরাসি দূত জেরোম বোনাফঁট বলেন, গ্রীষ্মের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে, জাতিসংঘের পুরনো নিষেধাজ্ঞা আবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিস বলেন, “শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই ইরান পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব।” একই সঙ্গে, আইএইএ-কে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির যাচাইয়ের দায়িত্বে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিসংঘের উপপ্রধান রোজমেরি ডিকার্লো বলেন, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। তিনি জোর দেন কূটনৈতিক সমাধানের ওপর।

এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত ড্যানি ড্যানন নিশ্চিত করেন, ইসরায়েল আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা আর ফিরে যেতে চাই না সেই মুহূর্তে, যেখানে গোটা অঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছিল।” গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়েও ইসরায়েল আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চায় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন