যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে হামলা, আইআরজিসির ৭ সদস্যসহ নিহত ১৬
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ইসরায়েলের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরে চালানো এ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুই জেনারেলসহ ৭ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা।
এই হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করছে তেহরান। তবে পাল্টা অভিযোগে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরান প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার জবাবেই তারা তেহরানে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ মঙ্গলবার সকালে জানান, “তেহরানের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী কারাজে হামলা চালায়।
এদিকে, ইরানের গিলান প্রদেশে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে মঙ্গলবারের হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
তবে এসব হামলার সময় ও বিস্তারিত অবস্থান এখনও প্রকাশ করেনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরান যুদ্ধবিরতির মারাত্মক লঙ্ঘন করেছে এবং এর জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” তারা দাবি করেছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ার শেভা শহরে ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, এতে চারজন নিহত হন।
তবে ইরান এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরে তারা কোনো হামলা চালায়নি। বরং তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি আগ্রাসন চালাতে থাকে, তবে এর “চূড়ান্ত, দৃঢ় ও যথাযথ জবাব” দেওয়া হবে। এই বার্তা দিয়েছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
এর আগেই, সোমবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরান ও ইসরায়েল “সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে” সম্মত হয়েছে। তিনি এই সংঘাতকে “১২ দিনের যুদ্ধ” বলে আখ্যা দেন।
কিন্তু ওই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সহিংসতা শুরু হয়, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
