নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান ৪৯ জেলার বাইরে আরও ১০ জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন, ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রেল মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, সেবার মান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সেখানে দেশের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনায় রয়েছে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা। বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল দেশের ৬৪ জেলাকে রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই নতুন আরও ১০টি জেলায় কীভাবে রেলসেবা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য রেললাইন ও প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী চলমান কয়েকটি বড় প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আখাউড়া-সিলেট ও সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। ধীরাশ্রমে একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
রেল অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের সীমাবদ্ধতা দূর করতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। এখন এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। এই লাইন চালু হলে প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে।”
রাজধানী ও আশপাশের জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-জয়দেবপুরের মতো ঢাকা-মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা-নরসিংদী রুটেও এমন সেবা চালুর চিন্তা করছে সরকার। বিশেষ করে মানিকগঞ্জে এখনো রেল যোগাযোগ না থাকায় জেলাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই মানুষ যেন ঢাকায় কাজ বা ব্যবসা শেষে দ্রুত নিজ জেলায় ফিরতে পারেন। সে লক্ষ্যেই নতুন কমিউটার রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর ভাষায়, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রেললাইন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগির অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “এখন থেকে রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচ একই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে রেলপথ নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়। বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।”
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে, পাশাপাশি নতুন জেলাগুলোতে যাতায়াত, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











