শান্তি আলোচনার স্বার্থে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে মস্কোর ওপর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার এই যুদ্ধ থামাতে আলোচনার চেষ্টা করছি। এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যা মস্কোকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেয়।’

এদিকে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রবিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নেওয়াটা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতো।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি মূলত ৬০ দিনের একটি বিরতি। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

ট্রাম্পের এমন অবস্থানের বিপরীতে জেলেনস্কির সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সম্ভবত কখনোই এই যুদ্ধ শেষ করতে চাননি। ট্রাম্পের দাবি, দুই বছর আগেই জেলেনস্কি বর্তমানের চেয়ে অনেক ভালো একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই জেলেনস্কি বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, পুতিন শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন।

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের বিতর্কিত চুক্তির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে ছাড়ের বিনিময়ে তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেক চীন এবং ৩৭ শতাংশ ভারত কিনে থাকে।