সচিবালয়ে আন্দোলনে মারামারির পর কমেছে অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চিবালয়ে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশবিরোধী চলমান আন্দোলন গত মঙ্গলবার সংঘটিত মারামারির ঘটনার পর অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। একসময় সচিবালয় এলাকায় যেভাবে আন্দোলনকারীদের জোরালো উপস্থিতি দেখা যেত, রোববার (২৯ জুন) সেখানে উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

রোববার সকাল ১১টায় মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র বিশজনের মতো কর্মচারী এতে অংশ নেন। পরে বাদামতলায় অনুষ্ঠিত একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের মহাসচিব মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “আন্দোলনে থাকা এই সরকারের প্রেতাত্মারা এখন মালে পকেট ভার করে ঘরে বসে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। আমাদের সভাপতি নুরুল ইসলাম এখনও মেডিকেলে ভর্তি। প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করি, রড-লাঠি সচিবালয়ে এলো কোথা থেকে, কেন সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল?”

সেলিম ঘোষণা দেন, সোমবারের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মো. নুরুল ইসলাম, অন্যপক্ষে আছেন মো. বাদিউল কবীর ও নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

এই দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্র সচিবালয়ের ক্যানটিন পরিচালনা। সরকার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ ক্যানটিন দখলের চেষ্টা চালায়। যদিও দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে চায়।

এ নিয়ে সমবায় অধিদপ্তর একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে। কিন্তু এর আগেই একপক্ষ ক্যানটিন দখলে নেয়। আদালতে রিট হলে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এই রায়কে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে।