সমুদ্রের বুকে এক টুকরো স্বর্গ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মায়াবী নির্জনতায় ছেঁড়া দ্বীপ

অনলাইন ডেস্ক:

সমুদ্র আর বালুকাবেলায় নির্জনতার মায়াবী আহ্বান উপেক্ষা করা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর জন্যই কঠিন। হাজার বছরের পুরনো প্রবালের সাথে এই অসীম নৈস্বর্গিক দৃশ্যের হাতছানি এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের বিন্দুতে অবস্থিত ছেঁড়া দ্বীপ এই হাতছানির মূল আকর্ষণ। ঢেউয়ের শব্দে শোনা যায় নিরবতার ঐকতান। চলুন, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ছেঁড়া দ্বীপের অবস্থান, ইতিহাস এবং ভ্রমণের বিস্তারিত জানি।

বঙ্গোপসাগরের বুকে সেন্টমার্টিন থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে “ছেঁড়া” দ্বীপ নামে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে এখানে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল ও জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, যা এখন মাত্র ১০টি প্রজাতি টিকে রয়েছে।

ঢাকা থেকে টেকনাফে বাসে যাতায়াত করে সেন্টমার্টিন পেরিয়ে ছেঁড়া দ্বীপ পৌঁছানো যায়। যাত্রা সহজতর করার জন্য সি-ট্রাক, ট্রলার এবং স্পিডবোটও পাওয়া যায়।

দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ শামুক, ঝিনুক, কাকড়া এবং স্বচ্ছ পানির নিচের রঙিন মাছ। আদিম পরিবেশে ছবি তোলার অনন্য সুযোগ ছাড়াও ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ রয়েছে, যা বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে অনেককে আকর্ষণ করে।

এই দ্বীপের প্রকৃত সৌন্দর্য্য সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দময় স্পন্দন এবং আকাশ রঙা জলরাশিতে সূর্যাস্তের রঙিন মিতালীতে মুগ্ধ করে যেকোনো ভ্রমণচারিকে।

শীতকাল ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কেননা এ সময় সাগর থাকে শান্ত, এবং পর্যটকদের যাত্রা নিরাপদ হয়। নভেম্বর থেকে এপ্রিলের শুরু অব্দি টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। শীতে এই দ্বীপে অতিথি পাখির ভিড়ও এক বিশেষ আকর্ষণ যোগ করে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।

বর্ষার মৌসুমে আবহাওয়া সংকটময় থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে এবং ট্রলারে যাতায়াত খুব একটা নিরাপদ নয়। যেহেতু ছেঁড়া দ্বীপসহ পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপপুঞ্জ একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব, দিনের শুরুতেই সেখানে যাত্রা করা বুদ্ধিমানের কাজ।

ছেঁড়া দ্বীপে খাবার বা থাকার কোনো হোটেল নেই, তাই পর্যটকদের খাবার সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হয়। সেন্টমার্টিনে থাকা-খাওয়ার প্রচুর ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের স্বাদ পাওয়া যায়।

ভ্রমণের সতর্কতা

• প্রবাল তুলে আনা উচিত নয়।

• সাবধানতার সাথে পায়ে হাঁটতে হবে, কারণ কোরালে পা কেটে যেতে পারে।

• দ্বীপে ময়লা-আবর্জনা ফেলা উচিত নয়।