সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে আশঙ্কাজনকভাবে সাইবার অপরাধ বাড়ছে। বাড়ন্ত ওসব অভিযোগ সামাল দিতে জনবল সঙ্কটে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলো হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিং, ফিশিং লিঙ্কের মাধ্যমে আইডি হ্যাক, ওটিপির ফাঁদে পড়ে অ্যাকাউন্টের সব টাকা খোয়ানো, এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল, জিমেইল হ্যাক, বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, পণ্য বিক্রির ফাঁদে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপরাধ সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। আর পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলোতে জমা হচ্ছে সাইবার অপরাধের অভিযোগের পাহাড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত সচেতনতা ছাড়া এ থেকে পরিত্রাণের বিকল্প নেই। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রতিদিন অসংখ্য সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষের নুড ছবি ও ভিডিও চোখে পড়ে সমাজমাধ্যমগুলো। এআই জেনারেটেড পিক হয়ে উঠছে এ ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার। তাছাড়া ছড়িয়ে রয়েছে আইডি হ্যাক ও প্রতারণায় নিত্যনতুন ফাঁদ। কোনো লিঙ্কে ক্লিক করতেই হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় মোবাইল ফোন। বর্তমানে দক্ষ জনবলের অভাবে বর্তমানে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে তেমন সাইবার সেবা সম্ভব হচ্ছে না।

 

সূত্র জানায়, রাজধানীতে পুলিশের সাইবার সাপোর্ট সেন্টার লুট হওয়া, চোরাই বা অবৈধ মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার, অপপ্রচার, গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা, ব্যক্তির চরিত্রহরণ, প্রতারণা ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে কাজ করে। প্রতিনিয়তই হ্যাক হচ্ছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইমো। ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগে সাইবার অপরাধীরা অনলাইনে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ওসব সমস্যা সমাধানে রিকভারি রেঞ্জার টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে বিগত পাঁচ মাসে ৯০৫টি সাইবারসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৩০টি সাইবার বুলিংসংক্রান্ত, টেলিগ্রামে ২৩৭টি আর্থিক প্রতারণা, ফেসবুকের ১৫০টি বিভিন্ন প্রতারণা, হারানো মোবাইলে লগইন করা আইডি ফিরে পাওয়াসংক্রান্ত ৭০টি, বিকাশ প্রতারণা ২২০টি এবং ফেসবুক ও জিমেইল হ্যাকের ৯৮টি অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে দুটি মোবাইল ফোন, হ্যাক হওয়া ১৫টি ফেসবুক আইডি, ৭টি জিমেইল আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। ২৭৩ জন ভুক্তভোগীকে সাইবারসংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়াও ২৯০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগ।

 

এদিকে এ বিষয়ে ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের ডিসি মো. শাহরিয়ার আলম জানান, এ সেন্টার থেকে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সেবাই দেয়া হচ্ছে। সেন্টারের নিজস্ব ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে সাইবারসংক্রান্ত সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের হটলাইনও (০১৩২০২০২০২০) রয়েছে। কেউ সাইবার মাধ্যমে হেনন্তা বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।