অনলাইন ডেস্ক:
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের এক পরিবর্তনে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ দল, যেখানে জামাল ভূঁইয়ার জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ডিফেন্ডার তপু বর্মণকে। হঠাৎ করে আসা এই অধিনায়ক বদলের বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠতেই তা খোলাসা করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলের কোচ টমাস ডুলি। তার মতে, স্কোয়াডে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ফুটবলারের অভাব না থাকলেও কেবল রক্ষণভাগ থেকে পুরো দলকে নিখুঁতভাবে সংগঠিত করার বিশেষ দক্ষতার কারণেই তপুকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোচ টমাস ডুলির সুনির্দিষ্ট বিবেচনায়, দলের রক্ষণভাগে এমন একজন বিশ্বস্ত খেলোয়াড় থাকা অত্যন্ত জরুরি, যিনি অনবরত সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মাঠের ভেতর দলটিকে সুসংগঠিত রাখতে পারবেন। এই কৌশলগত কারণে গোলরক্ষকের ওপর ভরসা না রেখে বরং একজন অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনের খেলোয়াড়কেই দলপতির আর্মব্যান্ডে দেখতে চেয়েছেন তিনি।
তপু বর্মণকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনের কারণগুলো আরও পরিষ্কার করে কোচ ডুলি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রক্ষণভাগে এমন একজনকে আমাদের প্রয়োজন, যিনি জোরালো কণ্ঠে কথা বলে পুরো দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠিত করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে গোলরক্ষক নয়, একজন সেন্টারব্যাক কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অধিনায়ক হলে তা দলের জন্য বেশি ফলপ্রসূ হয়। তপুর সঙ্গে অতীতে কাজ করার আমার দারুণ ও ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে একইসঙ্গে দলের একজন সত্যিকারের নেতা এবং সতীর্থদের কাছেও যথেষ্ট সম্মানিত।
তবে ডুলির মতে, হাতের বাহুতে জড়ানো অধিনায়কের এই আর্মব্যান্ডই কেবল মাঠের নেতৃত্বের একমাত্র কিংবা শেষ পরিচয় নয়। তার দৃষ্টিভঙ্গিতে, বাংলাদেশ দলের একাধিক ফুটবলারই নিজ নিজ জায়গা থেকে দলের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। মূলত মূল মাঠে নেমে সতীর্থ খেলোয়াড়দের সঠিক পথ দেখানো এবং উদ্দীপ্ত করাই হলো এখানে আসল ও সবচেয়ে বড় বিষয়।
এ প্রসঙ্গে আরও যোগ করে ডুলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের এই বর্তমান দলে জামাল, হামজা, তপু ও সদের মতো অনেক দক্ষ নেতাস্থানীয় খেলোয়াড় রয়েছে। বিশেষ কোনো অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছাড়াই একজন সাধারণ খেলোয়াড় দলের প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে পারেন। সবুজ মাঠে সতীর্থদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে পথ দেখানোই মূল বিষয়।











