গাজা যুদ্ধে ইসরাইল সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ

অনলাইন ডেস্ক:

প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধে ইসরাইল সামরিক লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন হামাসের সিনিয়র নেতা খলিল আল-হাইয়া। বুধবার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। খলিল আল-হাইয়া আরও বলেন, গাজার জনগণের দুর্ভোগের জন্য হামাস ইসরাইলকে কখনোই ‘ক্ষমা করবে না’। “গাজার সকল ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে, প্রতিটি রক্তের ফোঁটা এবং প্রতিটি অশ্রু বেদনা ও নিপীড়নের জন্য বলছি; আমরা ভুলব না এবং ক্ষমা করব না,” বলেন তিনি।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জত আল-রিশেক এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে হামাসের সব শর্ত পূরণ হয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধের শুরুর সময় হামাস যে শর্তগুলো দিয়েছিল, সেগুলি পূরণ করেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শর্তগুলো ছিল—ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বাস্তুচ্যুতদের তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া এবং গাজায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান।

গাজায় যুদ্ধবিরতির এই চুক্তির সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনি জনগণের ধৈর্য্যের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে হামাস। তাদের ভাষায়, “যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আমাদের মহান ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচল ধৈর্য্য এবং গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের ফল। এটি আমাদের জনগণের মুক্তির আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করেছে।”

এদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসীম আল-থানি গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী রোববার থেকে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে হামাস ৩৩ জন ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও ৫০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষরা রয়েছেন। এছাড়া, গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ৭০০ মিটার দূরে ইসরাইল তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে এবং প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে, ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে অবশিষ্ট সব জীবিত জিম্মিদের মুক্তি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয় থাকবে। তৃতীয় ধাপে, গাজায় অবশিষ্ট মৃতদেহগুলো ফেরত দেওয়া এবং গাজার পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে, যা মিশর, কাতার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।