অনলাইন ডেস্ক:
সার্বিয়ার পার্লামেন্টে গত মঙ্গলবার এক অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যখন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে পার্লামেন্টের অধিবেশনকক্ষে স্মোক গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেন। এই ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এবং ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা জেসমিনা ওব্রাদোভিচ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালে ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) তাদের এজেন্ডা অনুমোদন করাতে গেলে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। কিছু আইনপ্রণেতা তাদের আসন ছেড়ে স্পিকারের দিকে ছুটে যান এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় অন্য কয়েকজন আইনপ্রণেতা স্মোক গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে ছুড়ে মারেন, যার ফলে পার্লামেন্টের ভেতরে কালো ও গোলাপি ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে পার্লামেন্ট কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা জেসমিনা ওব্রাদোভিচ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সার্বিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্লাতিবর লোনচার জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া, পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ আরও তিন আইনপ্রণেতার আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন।
এ ঘটনার পেছনে সার্বিয়ায় চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ কাজ করছে। গত নভেম্বরে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হওয়ার পর থেকে সার্বিয়া জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হয়ে পরে শিক্ষক, কৃষক এবং অন্যান্য পেশার মানুষদেরও আকর্ষণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের দুর্নীতি এবং অদক্ষতার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
এটি প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের এক দশকের শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ থেমে যায়নি। আন্দোলনকারীরা সরকারের পতন এবং দুর্নীতির অবসান চাইছেন।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৯৯০ সালে সার্বিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এমন ঘটনা বিরল। এই ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা তাদের প্রতিবাদে ‘সাধারণ ধর্মঘট’ এবং ‘হত্যার জন্য ন্যায়বিচার’ লেখা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন, এবং পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীরা নিহতদের স্মরণে নীরব অবস্থান পালন করেন।











